রঙ্গমঞ্চ



শ্রীদেবীর অজনা অধ্যায়

Logo

ছবি: সংগৃহীত

শ্রীদেবীর অজনা অধ্যায়

বিনোদন ডেস্ক 2018-02-26 14:08:11

তারকার জীবনেও চরিত্রের মুখোশ বদলাতে বদলাতে আসে গ্লানি, চাপ, হতাশা। মানুষের কাটাছেঁড়ায় রক্তাক্ত হন তারা। যেমনটা হয়েছিলেন শ্রীদেবী।

চার বছরের শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়াপন পা রেখেছিল রুপালি জগতে। একাধিক ছবিতে কাজের সূত্রে শ্রীদেবীর শৈশব আর পাঁচজন মেয়ের মতো ছিল না। মা রাজেশ্বরী, বাবা আয়াপন নিতেন মেয়ের জীবনের সিদ্ধান্ত। এক সময় অভিনেতা কমল হাসনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শ্রীদেবী। তখন শ্রীদেবীর বয়স কম, কমল দক্ষিণের সুপারস্টার। মায়ের অগোচরে দু’জন নাকি সেট থেকে উধাও হয়ে যেতেন। তবে সেই প্রেম বেশি দূর এগোনোর আগেই হস্তক্ষেপ করেন শ্রীদেবীর মা।

এর পরই হিন্দি ছবিতে হাতেখড়ি শ্রীদেবীর। জিতেন্দ্রর সঙ্গে পরপর কয়েকটি ছবি করেন। ইন্ডাস্ট্রিতে রটে যায় দু’জনের সম্পর্কের কথা। শোনা যেতো, ছবির শুটিংয়ে গিয়ে দু’জনে নাকি হোটেলের একই রুমে থাকতেন। তবে শ্রীদেবী অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি আর জিতু কোনও দিনই একে অপরের ঘরে যাইনি।’

এর পর বিদেশে বিভিন্ন শো করতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর কাছাকাছি আসেন শ্রীদেবী। গুঞ্জন, কাজের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। মিঠুন তখন যোগিতা বালির স্বামী। মিঠুন-শ্রীদেবী সম্পর্কটাকে ‘গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দেন। পরে একটি পত্রিকায় তাদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ছবি প্রকাশিত হলে মিঠুন নাকি শ্রীদেবীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন। একটা সময়ে তারা মাড আইল্যান্ডে সাত মাস থেকেছিলেন বলেও শোনা যায়। তবে মিঠুন-শ্রীদেবীর সম্পর্কের স্থায়িত্ব খুব বেশি দিনের ছিল না।

শোনা যায়, মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীনই শ্রীদেবী তিন মাসের জন্য চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন। তখনই নাকি প্রযোজক বনি কপূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। বনি তখন মোনা কাপূরের স্বামী ও দুই ছেলেমেয়ে— অর্জুন, অংশুলার বাবা।

মোনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বনি আমার চেয়ে দশ বছরের বড়। যখন বিয়ে হয়, আমি তখন উনিশ। বড় হয়ে ওঠা বনির সঙ্গেই। আমাদের তেরো বছরের বিবাহিত জীবন। কিন্তু সম্পর্কটাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার জায়গা ছিল না। কারণ, ততদিনে শ্রীদেবী অন্তঃসত্ত্বা।’

শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় বনি এবং মোনার বিয়ে। মন্দিরে বিয়ে করেন শ্রীদেবী-বনি। একটা সময়ের পর মোনা-অর্জুন-অংশুলার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত বন্ধ হয় বনির।

অর্জুন একবার বলেছিলেন, ‘শ্রীদেবীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কোনও দিন স্বাভাবিক হবে না। আমার বাবার স্ত্রী উনি। এর বেশি কিছু নন।’

বনি-শ্রীদেবীর দাম্পত্য ২১ বছরের। শ্রীদেবী এক বার মন খুলে উজা়ড় করেছিলেন নিজের প্রেমকাহিনি— ‘১৯৮৪-তে বনি এসেছিলেন ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’য় আমাকে সাইন করানোর জন্য। পরে বনি বলেছিলেন, আমাকে দেখামাত্রই উনি আমার প্রেমে পড়েন। যদিও প্রোপোজ করতে তার বেশ কিছু বছর লেগে গিয়েছিল।’ জানান, ‘যখন ওকে মানুষ হিসেবে চিনতে শুরু করি, তখন প্রেমে পড়ি। এটা মেনে নিতে অনেক বছর লেগেছিল যে, আমার ডেস্টিনি বনির সঙ্গেই থাকা। যদি আরও আগে ভালবাসাটা বুঝতাম! যখন বুঝলাম, তত দিনে আমার মা-বাবা নেই। বোন এই সিদ্ধান্তে শক্‌ড!’

গুঞ্জন ছিল, প্রথম দিকে কাপূর পরিবার বনির দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে শ্রীদেবী বলেন, ‘শাশুড়ি আমাকে ভীষণ ভালবাসেন। সুনীতা (অনিল কপূরের স্ত্রী) আমাকে যে সাপোর্ট দিয়েছে, তা ভোলার নয়। বনির বোন রিনা, ভাই সঞ্জয় আর ওর স্ত্রী মাহিপও আমাকে ভালবাসে।’

এত বছর পর মোহিত মারওয়ার বিয়েতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে শ্রীদেবীকে পরিবারের সকলের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা গেলেও, এই জায়গা পেতে কম কাঠখড়় পোড়াতে হয়নি নায়িকাকে। অর্জুনের প্রথম ছবি মুক্তির আগেই মৃত্যু হয় মোনার। শ্রীদেবীও জাহ্নবীর ডেবিউ ছবি ‘ধড়ক’ মুক্তির আগে চলে গেলেন অকালে। মেয়ের সফরশুরুতে মায়ের অকালমৃত্যুও কম যন্ত্রণার নয়!

ভালবাসা প্রসঙ্গে একবার শ্রীদেবী বলেছিলেন, ‘এখনকার প্রজন্মের কাছে ভালবাসার অনুভূতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, জানি না। তবে আমার জন্য ভালবাসা শুধুই ‘আই লাভ ইউ’ বলা বা শারীরিক আকর্ষণ নয়। লাভ ডাজ এগজিস্ট।’

সত্যিই ভালবাসার জন্য হাজার চড়াই-উতরাই পেরিয়েছিলেন শ্রীদেবী। ভক্তদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, বিবাদ, অন্যের দীর্ঘশ্বাস... বাদ পড়েনি কিছুই। তবুও হাত ছাড়েননি ভালবাসার মানুষের। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বভাবোচিত হাসি রেখে যাপন করেছেন প্রতিটি ভূমিকাই— মেয়ে, মা, স্ত্রী এবং প্রেমিকার। (আনন্দবাজার) #

Reply


Write a comment

Sign up