ফিচার



ক্যানসার নির্মূলে নতুন পথের সন্ধান বাঙ্গালি বিজ্ঞানীর

Logo

ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার নির্মূলে নতুন পথের সন্ধান বাঙ্গালি বিজ্ঞানীর

ফিচার ডেস্ক 2018-03-22 16:39:50

শিকাগোর রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক কালীপদ পাহানের দাবি, তিনি ‘মোনোক্লোনাল’ নামে একটি অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন, যা ক্যানসার কোষ নিধনে সাহায্য করবে। তার গবেষণার বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সাধারণ দেহকোষ প্রকৃতির নিয়মেই নির্দিষ্ট সময়ের পর মরে যায়। অথচ মানবদেহের যে-কোষে ক্যানসার বাসা বাঁধে, তারা যেন কোন অদ্ভুত নিয়মে ‘অমর’! এই কোষ নিজেরা না-মরে রোগীকে মেরে ফেলে। কিন্তু মরণশীল মানুষের দেহে ক্যানসার-আক্রান্ত কোষ সত্যি সত্যিই তো আর অমর হতে পারে না! এই যুক্তিতে ভর দিয়ে এগোতে এগোতেই ক্যানসার-আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলার বিকল্প উপায় তিনি বের করে ফেলেছেন বলে দাবি এই বাঙালি বিজ্ঞানীর। তার গবেষণায় অন্য দুই সহযোগী হলেন, মধুচ্ছন্দা কুণ্ডু ও অভীক রায়।

বিজ্ঞানী কালীপদ পাহান জানান, ক্যানসার কোষকে কেমোথেরাপির মাধ্যমে জব্দ করার সময়ে প্রচুর সাধারণ সজীব কোষের মৃত্যু হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গিনিপিগ ছাড়াও মানবদেহের লিভার, স্তন, প্রস্টেটের ক্যানসার কোষের উপরে তার তৈরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া গেছে। সাধারণ কোষ বাঁচিয়ে ক্যানসার কোষ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।

তবে ফুসফুস ক্যানসারে কিন্তু ওই অ্যান্টিবডি কাজ করছে না।

কালীপদ জানান, যে কোষে ক্যানসার বাসা বাঁধে, সেই কোষ মারা যায় না। তার কথায়, ‘সাধারণ কোষের মতো ক্যানসার-আক্রান্ত কোষ মরে গেলে অনেক সুবিধা হবে। আমি প্রথমে খুঁজতে শুরু করি, ক্যানসার আক্রান্ত কোষ মরছে না কেন।’

বিজ্ঞানী জানান, যে-মলিকিউল বা সাইটোকাইন দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। সাইটোকাইনের একটি নিষ্ক্রিয় সদস্য ক্যানসার-আক্রান্ত কোষে সক্রিয় হয়ে প্রচুর মাত্রায় বংশবৃদ্ধি শুরু করে। সেই নিষ্ক্রিয় সদস্যই অতি সক্রিয় হয়ে ক্যানসার-আক্রান্ত কোষকে বাঁচিয়ে রাখছে। এটাই ক্যানসার কোষের ‘অমরত্ব’-এর রহস্য।

ওই বিজ্ঞানীর দাবি, তার তৈরি অ্যান্টিবডি ওই নিষ্ক্রিয় সদস্যকে বংশ বিস্তার করতেই দেয় না। সেই অ্যান্টিবডি মানবশরীরে ঢোকালে আর-দশটা সাধারণ কোষের মতোই ক্যানসার কোষ মারা যাচ্ছে। এমনকী ক্যানসার-আক্রান্ত কোষ ছড়িয়েও পড়তে পারছে না।

চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতালের কর্মকর্তা তাপস মাজির বক্তব্য, কালীপদবাবুর দাবি সত্যি হলে সেটা সকলের পক্ষেই অত্যন্ত উপকারী হবে। কলকাতায় টাটা ক্যানসার হাসপাতালের কর্মকর্তা মামেন চান্ডি জানান, ক্যানসার কোষ মেরে ওই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি বেরিয়েছে। তাতে অন্য কোষের ক্ষতি হবে না। #

Reply


Write a comment

Sign up