ভিনদেশ



গাধার বিয়ে

Logo

ছবি: সংগৃহীত

অদ্ভুত অদ্ভুত আচার-অনুষ্ঠান, অদ্ভুত রকম মানুষের খেয়াল পৃথিবীর আনাচে কানাচে চলছে হাজার বছর ধরে। খেয়ালের বশে মানুষ যেমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তেমন খেয়ালের বশে মানুষ অনেক আনন্দনুষ্ঠানও করে। তেমনই এক আনন্দনুষ্ঠান করে ফেললো ভারতের মাইসুরুর হুরা গ্রামের বাসিন্দারা।

হুরা গ্রামের বছর চারেকের পুরুষ গাধাটি বরাবরই শান্তশিষ্ট ছিল। সঙ্গিনী নিয়ে সুখে কাটছিল তার দিন। গত জুলাইয়ে চিতাবাঘের আক্রমণে প্রাণ হারায় তার সঙ্গিনী। তার পর থেকেই মেজাজ বিগড়ে যেতে শুরু করে গাধার। মানুষ দেখলেই তেড়ে যায়। অনেকে তার কামড়ে আহতও হয়েছেন।

এই অবস্থায় গাধাটিকে নিয়ে মহা সমস্যায় পড়েন হুরা গ্রামের মানুষ। তারা বুঝতে পারেন, সঙ্গিনীর বিরহেই সে খেপে গিয়েছে। সমাধান খুঁজতে ভেবেচিন্তে তার নতুন সঙ্গিনী জোটানোর উপায় খুঁজতে থাকেন গ্রামবাসীরা। সুপাত্রীর খোঁজ করার পাশাপাশি তার জন্য চাঁদাও তোলা হয়।

অগস্ট থেকে তালাশ শুরু হলেও নতুন সঙ্গিনীর খোঁজ মিলছিল না। শেষে সুখবর আসে ৬০ কিমি দূরের চামরাজনগর থেকে। হুরা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে শোকাতুর গাধার বৃত্তান্ত শুনে রাজি হন স্ত্রী গাধার মালিক। এমনকী, তার জন্য কোন পয়সা নিতেও তিনি রাজি হননি।

এদিকে ততদিনে চাঁদার টাকা জমেছে ২০ হাজার। সিদ্ধান্ত হয়, ওই টাকা দিয়ে ধুমধাম করে গাধার বিয়ের আয়োজন করা হবে। সেই মতো নবদম্পতিকে নির্দিষ্ট দিনে স্নান করিয়ে, নববস্ত্র পরিয়ে হাজির করা হয় ছাদনাতলায়। মঙ্গলসূত্র গলায় দিয়ে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে থাকল কনে। অপরিচিত জায়গায় আসার সময় চিৎকার করে চার পা ছুড়তে থাকে। এদিকে মন্ত্র পড়ে বিয়ে সম্পাদনে বসেন পুরোহিত মশাই। 

শেষ পর্যন্ত অবশ্য নির্বিঘ্নেই মিটেছে বিয়ের আসর। অনুষ্ঠানের শেষে নবদম্পতি-সহ অতিথিদের মিষ্টিমুখ করানোও হয়। শোনা গেছে, বিয়ের আসরেই কনেকে দেখে দারুণ খুশি হয়েছে বর। আপাতত সুখেই দিন কাটাচ্ছে যুগল। শুধরে গেছে গাধাটির মানুষ কামড়ানোর বাতিকও।

শেষ পর্যন্ত ঘরণী পেল নিঃসঙ্গ প্রাণ। মাইসুরুর হুরা গ্রামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল যুগল। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বাসিন্দারা। #

Reply


Write a comment

Sign up