চাঁদের মাটিতে নামলো ভারতের চন্দ্রযান-৩

ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে চাঁদের মাটি স্পর্শ করলো চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম। চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখনও অনাবিষ্কৃত। পৃথিবীর কোনও দেশ যেখানে পৌঁছতে পারেনি সেখানেই পৌঁছে গেছে ভারত। চূড়ান্ত পর্যায়ের এই অবতরণ প্রক্রিয়ায় ১৯ মিনিট সময় লেগেছে।
চাঁদে সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণ করানো দেশের তালিকায় চতুর্থ দেশ হিসেবে নাম লেখালো ভারত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিন চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে পেরেছে।
আর চাঁদের দক্ষিণ মেরু আবিষ্কারের প্রথম কৃতিত্বও পেলো ভারত। সেখানে একাধিক বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি নিয়ে চাঁদে নামবে রোভার। রোভারের সঙ্গে থাকবে একাধিক দিকনির্দেশক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা। চাঁদের মাটিতে অনুসন্ধান চালাবে এটি।
চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডারের নাম ‘বিক্রম’, রোভারের নাম ‘প্রজ্ঞান’। ল্যান্ডারটি উচ্চতায় ২ মিটারের মতো, ওজন ১ হাজার ৭০০ কেজির বেশি। আকারে ছোট রোভারের ওজন ২৬ কেজি মাত্র। এই রোভারই চাঁদের বুকে ঘুরে ঘুরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে।
আগামী দু’সপ্তাহ ধরে স্পেকট্রোমিটার বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে কোন ধরনের খনিজ বস্তু রয়েছে তা খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য পাঠাবে রোভার। এই সমস্ত পরীক্ষাগুলো করার জন্য ল্যান্ডার এবং রোভারের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি।
চাঁদের মাটিতে মহাকাশযানের প্রথম সফল অবতরণ করায় রাশিয়া। ১৯৫৯ সালে ‘লুনা-২” চন্দ্রযান চন্দ্রপৃষ্ঠে সফল অবতরণ করে। ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে প্রথম মানুষ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাপেলো মিশনে সফলভাবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে মানুষ। এরপর সফল চন্দ্রাভিযান ছিল চিনের চ্যাংই-৩ মিশন।
২০০৮ সালের অক্টোবরে চাঁদে ভারতের প্রথম মিশন চন্দ্রযান-১ সফল উৎক্ষেপণ হয়। চন্দ্রযান-১-এ ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, সুইডেন এবং বুলগেরিয়াতে নির্মিত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। এটি চন্দ্র পৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে, চাঁদের রাসায়নিক, খনিজ এবং ফটো-জিওলজিক ম্যাপিং করে। ২০০৯ সালের মে মাসে চাঁদ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে অবস্থান করার সময় এর সবরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চাঁদে ভারতের দ্বিতীয় অভিযানের লক্ষ্য ছিল চাঁদের অজানা দক্ষিণ মেরু খুঁজে দেখা। তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত হয় চন্দ্রযান-২। অরবিটার, ল্যান্ডার এবং রোভার। ২০১৯ সালের ১৪ অগাস্ট সফল উৎক্ষেপণ হয়। পৃথিবীকে সফল প্রদক্ষিণ করে এটি ২০ আগস্ট প্রবেশ করে চাঁদের কক্ষপথে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে অরবিটার থেকে আলাদা হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রম-২। চাঁদের ২.১ কিলোমিটার আগে পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। তারপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গত ১৪ জুলাই ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশকেন্দ্র থেকে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণ করা হয়।
আগস্ট ২৩, ২০২৩
এসবিডি/এবি/
মন্তব্য করুন: